দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইতালির রাজধানী রোমে শুরু হয়েছে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সপ্তম দফার কূটনৈতিক বৈঠক। তিন দিনব্যাপী এ বৈঠকের মূল লক্ষ্য দক্ষিণ লেবাননে নতুন ‘পরীক্ষামূলক এলাকা’ নির্ধারণ করা, যেখান থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরায়েল এবং সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে লেবাননের সেনাবাহিনী।
তবে বৈঠক শুরু হলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত জুনের শুরুতে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরও দেশটির বাহিনী নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছিল ইসরায়েল। এর বিনিময়ে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার কথা বলা হয়। তবে এখনো সেই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।
লেবাননের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির প্রতিনিধিদলে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক রাষ্ট্রদূত সাইমন কারাম, বর্তমান রাষ্ট্রদূত নাদা মুয়াওয়াদ এবং সামরিক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জর্জ রিজকাল্লাহ। এ ছাড়া আইন উপদেষ্টা আন্তোয়ান স্ফেইর এবং ভূমি জরিপ বিশেষজ্ঞ নাজিব মাসিহিও বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
এ দফার আলোচনায় লেবানন নতুন পরীক্ষামূলক এলাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেবে। দ্বিতীয় ধাপে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর দক্ষিণে অবস্থিত বিনত জবেইল অথবা খিয়ামকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে যেসব এলাকা থেকে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহারে সম্মত হতে পারে, সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হবে।
লেবাননের কৃষিমন্ত্রী নিজার হানি বলেছেন, আগের চুক্তির পর মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট নয়। তার ভাষায়, বর্তমান বাস্তবতা প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও সরকারের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকের আগের দিন মঙ্গলবার লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী ইয়ারুন, আরনুন ও বিনত জবেইল এলাকায় জলন্ত ফসফরাস বোমা নিক্ষেপ করেছে। এতে জলপাই ও পাইনবনে বড় ধরনের আগুন লাগে। এ ছাড়া নাবাতিয়েহর আলি আল-তাহের পাহাড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং তায়ার অঞ্চলের বায়ত আল-সাইয়াদ এলাকায় একটি ড্রোন থেকে বিস্ফোরক নিক্ষেপের খবরও জানানো হয়।
হিজবুল্লাহ সরাসরি এ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না। সংগঠনটির মহাসচিব নাঈম কাসেম আলোচনার সমালোচনা করে বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা লেবাননের জন্য ‘লজ্জা, অপমান, হতাশা ও একের পর এক ছাড় দেওয়া’ ছাড়া কিছুই বয়ে আনবে না। তবে তিনি লিতানি নদীর দক্ষিণে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম হিজবুল্লাহর সমালোচনা করে বলেছেন, সংগঠনটি দেশকে ‘অর্থহীন যুদ্ধে’ জড়িয়ে ফেলেছে।
লেবাননে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা চলমান আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, একটি কার্যকর প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষের সম্মতি জরুরি। তার মতে, তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিলে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই পরবর্তী ধাপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় নিয়ে এগোনোর ওপর জোর দেন তিনি।
তবে আন্তর্জাতিক সংকট গোষ্ঠীর ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননবিষয়ক প্রকল্প পরিচালক হেইকো ভিমেনের মতে, আলোচনাকে ঘিরে এখনো পরস্পরবিরোধী সংকেত রয়েছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র একটি বিস্তৃত শান্তি প্রক্রিয়ার দিকে এগোতে চাইলেও ইসরায়েল ধীরগতিতে চুক্তি বাস্তবায়নের পথেই রয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানও ইতিবাচক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
/অ